April 20, 2026, 1:36 am

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালকের দৌড়াত্বঃ পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ

শাহ কামাল সবুজ: সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল প্রকল্প বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। বর্তমানে এই হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করণের কাজ চলছে। যার দ্বায়িত্বে আছেন হাসপাতাল প্রকল্প পরিচালক, শরীফ এম,ডি ফরহাদ হোসেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ চারটি লটে একশো ছয় কোটি সাতাশি লক্ষ আট হাজার টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। উক্ত দরপত্র গত ২০/১১/২০২৩ ইং তারিখ উন্মুক্ত করা হয়। যাতে Anifco Health Care – ২ টি, New Vision Medisystem -১টি এবং Medi Square Limited-১টি তে সর্বনিম্ন দরদাতা বিবেচিত হয়। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে জরুরী প্রকল্পটির গতিরোধ করার জন্য উক্ত দরপত্র ৩টি আবার পুনঃদরপত্র আহবান করেন এবং তার আশীর্বাদপুষ্ট ঠিকাদার মেডিকেট কর্পোরেশনকে (সর্বোচ্চ দর দাতা হওয়া সত্ত্বেও) স্থগিতকৃত কাজটি পাইয়ে দেয়ার গোপন পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, মেডিকেট কর্পোরেশনকে ইতিপূর্বে যে কার্যাদেশের ভিত্তিতে যোগ্য দেখিয়ে প্রায় আটত্রিশ কোটি টাকার কাজটি দেয়া হয়েছে সেই কার্যাদেশটিও শতভাগ ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। যা বিভাগীয় তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।
বর্তমানে সরকারের এ অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মহল মেডিকেট কর্পোরেশন এবং হাসপাতাল প্রকল্প পরিচালক শরীফ এম,ডি ফরহাদ হোসেনের গোপন আঁতাতকে দায়ী করছেন। তারা আশংকা প্রকাশ করেন সরকারের একটা ভালো কাজ যেন তেন প্রকারে সমাপ্ত হবে ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই বড় ধরনের কোনো বিপদ ঘটতে পারে। এবং বেহুদা সরকারের কোটি কোটি টাকা প্রকল্প লুটপাটের ভাগবাটোয়ারায় পরিনত হবে। এ ব্যাপারে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকার সচেতন মহল। তারা বলেছেন এমন জনহিতকর কাজে কোনো স্বজন প্রীতি নয়। যারা এসব কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ এবং এ কাজে যাদের দীর্ঘ সুনাম রয়েছে তাদের দিয়ে এ কাজটি করানো উচিৎ। যাতে করে সরকারের জনহিতকর এসব কাজের দীর্ঘমেয়াদী সুফল দেশ ও জনগন ভোগ করতে পারেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা